আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে রাসূলের (সা.) হাদিস
জিলহজের ৯ তারিখ যাকে ইয়াওমে আরাফা বলা হয়- এই দিনটি বছরের শ্রেষ্ঠ দিবস।
![]() |
| আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে রাসূলের (সা.) হাদিস |
বছরের শ্রেষ্ঠ রাত যেমন লাইলাতুল কদর, তেমনি শ্রেষ্ঠ দিবস হচ্ছে আরাফা দিবস। এই দিনে নফল রোজা রাখা অত্যধিক ফজিলতপূর্ণ। হজরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আরাফার দিনের একটি রোজার বদৌলতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আগের-পরের দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।
আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে রাসূলের (সা.) হাদিস:
وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ صَومِ يَوْمِ عَرَفَةَ، قَالَ: «يُكَفِّرُ السَّنَةَ المَاضِيَةَ وَالبَاقِيَةَ» رواه مسلم
আবূ কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার দিনে রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, তার পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গোনাহ মোচন করে দেয়। (মুসলিম ১১৬২, রিয়াদুস সলেহিন,হাদিস নম্বর: ১২৫৮, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)।
অপর বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَه
আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘ইয়াওমে আরাফার (নয় জিলহজ) রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২; জামে তিরমিযী, হাদিস: ৭৪৯; সুনানে আবু দাউদ,হাদিস: ২৪২৫)।
তাহলে বুঝতেই পারছেন, মাত্র একদিন সিয়াম পালন করে কী অসীম মর্যাদা লাভ করতে পারেন। এরকম কাছাকাছি মর্যাদার কথা আছে আশুরার রোজা সম্পর্কে। আশুরার রোজা দ্বারা এক বছরের গুনা মাফ করে দেয়া হয়।
কিন্তু একটি মুশকিল হলো, বিভিন্ন আলেম দিনটি নির্ধারণ নিয়ে মতপার্থক্য করছেন। কোন ৯ তারিখ রোজা রাখব? সৌদি আরবের ৯ তারিখে হাজিরা আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকেন। আর হাদিসে বলা হয়েছে ইয়াওমে আরাফা (আরাফার দিন)। তাই তারা বলেন, যেদিন আরাফার ময়দানে হাজিরা থাকেন, সেই দিন সিয়াম পালন করতে হবে।
অপরদিকে অন্যরা বলছেন, আরাফার দিন হলো ৯ জিলহজ। তাই প্রত্যেকে তাদের নিজনিজ এলাকার ৯ জিলহজ অনুসারে সিয়াম পালন করবেন । কারণ, আমরা তো সৌদি আরবের দিনের সঙ্গে রোজা বা ঈদ করি না, তবে এটি করব কেন? তাদের এই যুক্তিও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
তাই অনেক বিজ্ঞজন বলে থাকেন, এত গুরুত্বপূর্ণ দিনটির ফজিলত যেন বাদ না যায়, সেজন্য ২ দিন সিয়াম পালন করব। হাজিরা যেদিন আরাফার ময়দানে উপস্থিত হন সেদিন এবং নিজ দেশে যেদিন ৯ জিলহজ হয় সেদিন । আমার কাছে মনে হয়, এটি একটি নিরাপদ সিদ্ধান্ত। এমনিই তো এই ৯ দিন সিয়াম পালনের গুরুত্ব খুব বেশি। আর অনেকেই ধারাবাহিকভাবেই রোজা রাখছেনও। আমি বেশ কয়েকজনকে পেয়েছি তারা পুরো ৯ দিনই বা বেশিরভাগ দিন রোজা রাখছেন । সুতরাং এরমধ্যেই পড়ে ৮ ও ৯ যিলহজ্জ । বিশেষ করে এই ২ দিন (অর্থাৎ এবার (২০২০) বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকলেই রোজা রাখতে চেষ্টা করব।
আর যারা জিলহজ মাসের প্রথম ০৯ দিনই সিয়াম পালন করছেন তাদের কথা আলাদা।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লার তায়ালা সব মুসলিম উম্মাহকে আরাফার দিবসের রোজা রাখার এবং এর পরিপূর্ণ ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
ঈদের আগে এটাই হতে পারে আপনার দেখা শ্রেষ্ঠ ভিডিও | Dr Muhammad Ibrahim facebook page-https://www.facebook.com/TrueSkillsmu... Group- https://www.facebook.com/groups/44705... profile-https://www.facebook.com/muhammadibra... Business Email - ibrahimshuvo400@gmail.com Our Channel-our channel true skills always uploads educational,motivational,islamic videos for you..our videos will be very much helpful for you to learn something new.. bangladesh waz mahfil bangla waz 2020 waz mahfil 2020 muhammad ibrahim true skills watch our more videos https://www.youtube.com/playlist?list...
ঈদের নামাজ মসজিদে, মানতে হবে ১৩ শর্ত
| ঈদের নামাজ মসজিদে, মানতে হবে ১৩ শর্ত |
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীতে বিপর্যস্ত মানবজীবন। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতেই পালিত হতে যাচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। তাই ঈদের নামাজের জন্য বেশ কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
ঈদগা ময়দান, খোলা মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ পড়ার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে মন্ত্রণালয়।
তবে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর আগে কোরবানির ঈদকে ঘিরে আবারো করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞারা। তাই প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে একটি নির্দেশানা জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই নির্দেশনায় ঈদের নামাজ আদায়ে ১৩টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
শর্তগুলো হলো :
- ১. করোনার কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদুল আজহার জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে কাছের মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে।
- ২. জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
- ৩. প্রত্যেককে বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
- ৪. মসজিদে অজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
- ৫. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।
- ৬. জামাতে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
- ৭. নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।
- ৮. শিশু, বৃদ্ধ ও যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না।
- ৯. স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
- ১০. জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ১১. নামাজ শেষে খতিব ও ইমামরা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া চাইবেন।
- ১২. খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
- ১৩. কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।
প্রসঙ্গত, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪৮ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মারা গেলেন ৩০৮৩ জন। নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৬৯৫ জন। এপর্যন্ত শনাক্ত হলেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ জন। আজ সুস্থ হয়েছে ২৬৬৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ জন।
৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

No comments:
Post a Comment